স্বামীকে হত্যার অভিযোগে চেন্নাই পুলিশ ব্যাঙ্গালোর
থেকে ২২ বছরের দক্ষিণী সিনেমা অভিনেত্রী শ্রুতি চন্দ্রলেখাকে গ্রেফতার করল।
পর্নোগ্রাফি সিনেমার জন্য তাঁর ওপর জোরজবরদস্তি করার কারণেই তিতিবিরক্ত
হয়ে স্বামীকে খুন করেছেন বলে শ্রুতির দাবি। শ্রুতি কয়েকটি তামিল ও কান্নড়
সিনেমায় অভিনয় করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, শ্রুতি তাঁর দুই সঙ্গীর সঙ্গে ছক
কষে তাঁর স্বামী এস রোনাল্ড পিটার পিঞ্জো (৩৫)-কে হত্যা করেন।অন্য পাঁচ
জনের সহায়তায় পিটারের দেহ তিরুনেলভেলি জেলার পালায়ামকোট্টাইতে মাটিতে পুঁতে
দেন।
গত জানুয়ারিতেই পুলিশ শ্রুতির সঙ্গী প্রিনসন ও
গাঁধীমাথিনাথন, বিজয়,বিনোথ নির্মল এবং রফিককে গ্রেফতার করে। উমাচন্দ্রন ও
এলিসা নামে আরও দুই অভিযুক্ত ফেরার।
পুলিশ জানিয়েছে, শ্রুতি ও পিটার
বিবাহবিচ্ছিন্ন ছিল। আলাপ হওয়ার পর তাঁর পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর
ব্যবসায় লোকসানের কারণে সালেমের ব্যবসায়ী পিটার শ্রুতির সঙ্গে মাদুরাভোয়ালে
চলে আসেন। সেখানে পিটার উমাচন্দ্রণ ও প্রিনসনের সঙ্গে যৌথভাবে ব্যবসা শুরু
করে। কিন্তু ব্যবসায় লোকসানের কারণে উমাচন্দ্রন ও প্রিনসন তাদের লগ্নি করা
টাকা ফেরত চায়। কিন্তু অর্থ ফেরত দেওয়ার সঙ্গতি পিটারের ছিল না। চাপের
মুখে তিনি স্ত্রী শ্রুতিকে পর্নোগ্রাফি সিনেমা করতে বলেন। পুলিশকে শ্রুতি
জানিয়েছেন, এজন্য প্রায়শই তাঁর ওপর পিটার জোরজবরদস্তিও করতেন।পিটার তাঁকে
পর্নোগ্রাফি সিনেমার গ্রুপ সেক্সে অংশ নেওয়ার জন্য চাপ দেন। কিন্তু শ্রুতি
তা অস্বীকার করেন।
এরপর পিটার ব্যাঙ্গালোরে গেলে শ্রুতি স্বামীকে
হত্যার ছক কষেন। তিনি পিটারের ব্যবসায়িক অংশীদার প্রিনসন ও উমাচন্দ্রনের
সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
পরিকল্পনা অনুসারে পিটার বাড়িতে ফিরে এলে
শ্রুতি তাঁকে বিষ মেশানো দুধ খেতে দেন। তা খেয়ে পিটার অজ্ঞান হয়ে পড়লে
প্রিনসন ও উমাচন্দ্রন তার গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করে। এরপর
গাঁধীমাথিনাথন,বিজয়,নির্মল,এলিসা ও রফিকের সাহায্যে পিটারের মরদেহ গাড়িতে
নিয়ে গিয়ে কবর দিয়ে দেয়।
পিটার নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার পর তাঁর ভাই এ
ব্যাপারে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন।পুলিশ তদন্তে নেমে ষড়যন্ত্রের
কথা জানতে পারে।গত মে মাসে কবর থেকে পিটারের দেহ তোলা হয়। এতদিন শ্রুতি
ফেরার ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার ব্যাঙ্গালোরে এক প্রযোজকের বাড়ি থেকে তাঁকে
গ্রেফতার করা হয়।